রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক:
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মিট দ্য গভর্নর’ অনুষ্ঠান। ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণ এবং ‘বাংলা কিউআর’ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহতেশামুল হক খান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
‘এক দেশ এক কিউআর, লেনদেন বাংলা কিউআর’ স্লোগানে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘বাংলা কিউআর’-এর ব্যবহার ও সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। তারা বলেন, দেশের সর্বস্তরে ক্যাশলেস লেনদেন চালু করতে ‘বাংলা কিউআর’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে লেনদেন ব্যবস্থায় গতি আসার পাশাপাশি বাংলাদেশ আধুনিক ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার দিকে আরও এগিয়ে যাবে।
পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘বাংলা কিউআর’, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও ডিজিটাল লেনদেন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। গভর্নর এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশও দ্রুত ক্যাশলেস ও ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন ব্যাপকভাবে চালু হয়েছে। গভর্নরের রূপরেখা অনুযায়ী বাংলাদেশও দ্রুত ক্যাশলেস সমাজের দিকে এগিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, গবেষণায় বাকৃবি দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে অনেক দূর এগিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার গতি বজায় রাখা এবং নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ ব্যাংকিং খাতকে সিএসআর ফান্ডের মাধ্যমে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে ‘বাংলা কিউআর’-এর বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো এবং নগদ অর্থের ব্যবহার কমাতে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের লেনদেন করা সম্ভব হওয়ায় খুচরা টাকার সমস্যাও থাকবে না। একই সঙ্গে লেনদেনের খরচ কমবে।
গভর্নর বলেন, বর্তমানে দেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের কম, যা একসময় ১০ শতাংশ ছিল। কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন বাড়লে বছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় সম্ভব হতে পারে।
তিনি জানান, আগামী ১ অক্টোবর থেকে কিউআর লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) শূন্য করা হবে। ফলে কোনো গ্রাহক ১০০ টাকা পরিশোধ করলে মার্চেন্টও ১০০ টাকা পাবেন।
গভর্নর আরও বলেন, বর্তমানে নোট ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এ ব্যয় অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।